29.9 C
Chittagong
Tuesday, May 28, 2024
spot_img

সময়ের গুরুত্ব

———————————॥মুহম্মদ মাসুম চৌধুরী॥
————————————
সময় মানে জীবন।সময়ের চেয়ে দামী কিছু দুনিয়াতে নেই।যারা সময়ের গুরুত্ব দিয়েছে তারাই সফল হয়েছে।সময়ের কাজ সময়ে না করলে সময় চরম প্রতিশোধ নেয়।যার হাতে কিছুই নেই তার হাতে সময় আছে।সময়কে কাজে লাগিয়ে সফল হওয়া যায়।সবচেয়ে বড় অপচয় সময়ের অপচয়।সাধারণ মানুষ সময় কাটান আর অসাধারণ মানুষ সময় কাজে লাগান।দুনিয়ার সেরা সফল মানুষ আর ব্যর্থ মানুষ সবারই ২৪ ঘন্টায় দিন।সঠিক সময়ে সঠিক কাজটি করা এবং এক সাথে একাধিক কাজ সূচারুরূপে সম্পাদন করার নামই ‘টাইম ম্যানেজমেন্ট’।সঠিক সময় সঠিক কাজ করার নাম সময়ের গুরুত্ব।সময়ে গুরুত্ব বুঝাতে মহাম আল্লাহ পাক পবিত্র কোরআনে ‘সময়ের শপথ’ গ্রহণ করেন।যে বিষয়ে আল্লাহ পাক শপথ গ্রহণ করেন সে বিষয়ের মর্যাদা ও গুরুত্ব অনেক বেড়ে যায়।সুখের সময় আল্লাহকে স্মরণ করলে দু:খের সময় তিনি আমাদের স্মরণ করেন।অর্থের চেয়ে সময়ের মূল্য অনেক বেশী।টাকা গেলে টাকা ফিরে পাওয়া যায়, সময় নয়।জীবন যতই ছোট হোক, সময়ের অবহেলার কারণে জীবন আরো ছোট হয়ে যায়।কখনো কখনো সময় খারাপ যাচ্ছে বলে দু:চিন্তা করতে নেই।আল্লামা ইকবাল বলেছেন,’রাত যত গভীর-গহীন হোক প্রভাতের সূচনা অনিবার্য’।কবি শেলী বলছেন,’শীত যখন এসেছে বসন্ত কী আর দূরে থাকতে পারে! দু:খের পর সুখের আগমন।হতাশ না হয়ে শুধু অপেক্ষা করতে হয় আর নিজকে জাগাতে হয়।কবি কাজী নজরুল ইসলামের একটি কবিতা দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ছি,যার প্রকৃত অর্থ বুঝতে বহু বছর সময় লেগে যায়।কবি বলছেন,’আমরা যদি না জাগিমা কেমনে সকাল হবে?/ তোমার ছেলে উঠলে গো মা রাত পোহাবে তবে’।
খোকা জাগুক আর নাই জাগুক ভোর তো হবেই।মানুষের ভিতরে আল্লাহ প্রদত্ত প্রচণ্ড শক্তি আছে, সে শক্তির জাগ্রন ঘটাতে ব্যর্থ হলে জীবন ব্যর্থ হয়।জীবনের ভোর আর হয় না।জীবন অন্ধকারের কানা গলিতে হারিয়ে যায়।আমার প্রিয় একটি ধাধা শুনাতে চাই।’উত্তারিকার সূত্রে পাওয়া যায় না, ধার করা যায় না, টাকা দিয়ে কেনা যায় না,জমা রাখা যায় না,তার নাম কী? তার নাম ‘সময়’।সময়ের মাঝে শ্রেষ্ঠ সময় তারুণ্য।আমি তারুণ্য হারিয়ে ফেলছি,এখন আমার জীবনের সেরা সময় হলো,আমি যখন তরুণদের উদ্দেশ্য কথামায় সময় কাটাই।ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এপিজি আবদুল কালাম মহামান্য রাষ্ট্রপতির আসনে সময় না কাটিয়ে অধিকাংশ সময় কাটাতেন তরুণদের মাঝে।তাঁর কাছে প্রশ্ন করা হয়েছিল,আপনি রাষ্ট্রপতির ভবনে সময় না কাটিয়ে অধিকাংশ সময় কেন তরুণদের মাঝে কাটান? জবাবে তিনি জানালে, যেখানে রয়েছে আগামী দিনের ভারত শাসক,বিজ্ঞানী, দার্শনিক.কবি, সাহিত্যিক সেখানে সময় না কটিয়ে রাষ্ট্রপতি ভবনে সময় কাটানো আমার নিকট গুরুত্বপূর্ণ নয়।
সময়ের কাজ সময়ে করতে হয়।শৈশবের কাজ যৌবনে হয় না।যৌবনের কাজ বার্ধক্যে হয় না।শিক্ষা জীবনে সময় নষ্ট করলে শুধু পরীক্ষা খারাপ হয় না,জীবন নষ্ট হয়।
জাপান দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে পরাজিত হয়,ধ্বংস হয় হিরোশিমা ও নাগাসাকি।যে দেশে এক ফোটা তেল গ্যাস নেই,প্রাই সময় ভূমিকম্প হয়।সে দেশের মানুষ সময়ের মূল্য আত্মস্থ করতে পারছে বলেই এখন উন্নত জীবন ভোগ করছে।দুনিয়ার বহুকিছুর মূল্য নির্ধারণ করা যায়,সময়ের মূল্য নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।উইলিয়াম শেক্সপিয়র বলেছেন,’সময়ের প্রতি যাদের শ্রদ্ধা নেই,তারাই নি:স্ব, বঞ্চিত ও পরমুখাপেক্ষী’।
সময়ের সিদ্ধান্ত সময়ে নিতে ব্যর্থ হওয়ায় জগৎখ্যাত সেনাপতি পরাজিত হয়।মহাবীর নেপোলিয়ান ওয়াটার লু’র যুদ্ধে পরাজয়ের কারণ হলো সেনাপতি যুদ্ধক্ষেত্রে সঠিক সময়ে হাজির না হওয়া।যুদ্ধক্ষেত্রে সঠিক সময় উপস্থিত না হওয়ার কারণ হলো পেরেকের অভাবে ঘোড়ার খুর কাজ করেনি,খুর কাজ না করায় যুদ্ধক্ষেত্রে ঘোড়া কাজে লাগেনি,অশ্বারোহী সৈন্য বাহিনী কাজে লাগাতে না পারায় যুদ্ধে পরাজিত হয়।যুদ্ধে হেরে যাওয়ায় রাজত্ব হারায়।সবকিছু ঘটেছে সঠিক সময়ে ঘোড়ার পেরেক আনতে পারেনি বলেই।
ঘড়ির কাঁটা টিক টিক করে আমাদের বলে যায় ঠিক সময়ে ঠিক কাজটি করে যাও।
আমরা অনেক কাজে সময় দিই,অনেক সফল মানুষ সফলতাকে ধরে রাখতে সমস্ত সময় ব্যয় করেও সুখি হতে পারে না।কারণ সময়ের সঠিক ব্যবহার করলেও নিজকে সময় দেননি,জীবনকে সুখি করতে সময় দেননি,পরিবারকে সময় দিতে ব্যর্থ হয়েছে।অঢেল অর্থবিত্তের মালিক হয়ে জীবন সফল করতে পারলেও কিন্তু স্বার্থক করা সম্ভব হয়নি।সময়ের সঠিক ব্যবহারে মানুষ সফল হলেও সবাই কিন্তু সমান সফল হয় না।কারণ সফলতা কারো দরজায় কড়া নাড়ে,কেউ ডেকে আনতে হয়।যাদের দরজায় কড়া নাড়ে তাদের বলে ভাগ্যবান।যারা ডেকে আনে তারা পরিশ্রমী।তারা সময় ব্যবহারে শৃঙ্খল।
আমরা এক সময় ছিলাম না,এখন আছি আরেক সময় থাকবো না,এটিই জীবনের বিধান।মানুষের জীবন সামান্য সময়ের।মুসলমান শিশু জন্মের পর আজান ইকামত দিতে হয়।মৃত্যুর পর নামাজ (জানাজার নামাজ)পড়তে হয়।আজান ইকামতের মাঝখানের ক্ষুদ্র সময়ই আমাদের জীবন।ইমাম গাযযালী (রহ:) বলেছেন,’মানুষ যখন নিদ্রা যায় তখন স্বপ্ন দেখে।মানুষ যখন স্বপ্ন জগতে থাকে তখন স্বপ্নকে বাস্তব জগৎ ভাবে।নিদ্রা ভঙ্গের পর দুনিয়ার জগৎকে ভাবে বাস্তব জগৎ।মৃত্যুর পর মানুষ দেখবে পরকালই বাস্তব ও আসল জগৎ।তখন দুনিয়ার জগৎকে মনে হবে স্বপ্নময় জগৎ।আমরা দুনিয়াতে এখনো বসবাস করছি বলেই পরকালের কথা ভাবতে পারছি না।জীবনটা স্বপ্নময় সংক্ষিপ্ত হলেও মহত।দুনিয়ার এই সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে নিহিত রয়েছে জান্নাত-জাহান্নাম।পরকালে জান্নাত-জাহান্নাম ভোগ করে কিন্তু অর্জন করা যায় দুনিয়ার সংক্ষিপ্ত সময়ে।দুনিয়ার সংক্ষিপ্ত সময়ে পুলসিরাত পার হতে হয়।’ইহদিনাস সিরাতাল মোস্তাকিম’ সরল পথে জীবন পরিচালিত করাই পুলসিরাত পার।দুনিয়ার সরল পথ হতে বিচ্যুত হলে পরকালের পুলসিরাত পার হওয়া সম্ভব নয়।সৈয়দ মুজতবা আলী বলেছেন,’জীবনটাকে লম্বায় বড় করা যায় না,পরিধিতে বাড়াতে চেষ্টা করুন’।আমরা আল্লাহর নিকট হতে যতটুকু হায়াতে জিন্দেগী নিয়ে এসেছি তা টেনে লম্বায় বড় করতে পারবো না।সংক্ষিপ্ত জীবনে মহত কর্মে জীবনের পরিধি অনেক অনেক বাড়াতে পারি।মানুষ অনন্তকাল বেঁচে থাকতে পারে না কিন্তু কল্যাণ মূলক কাজের মাধ্যমে মহামানবরা অনন্তকাল বেঁচে থাকেন।তাঁদের স্মরণ নয়,অনুসরণ করা প্রয়োজন।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

0FansLike
3,912FollowersFollow
21,800SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles