রেজাউল করিম সিকদার ফাউন্ডেশন (আরকেএসএফ) হলো একটি অরাজনৈতিক, অলাভজনক,শিক্ষা, পরিবেশ, ক্রীড়া,স্বাস্থ্য, মানবাধিকার ও আত্ম – সামাজিক উন্নয়ন মূলক সংগঠন। যা উন্নত ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনের লক্ষ্যে ২০১৯ সাল থেকে কাজ করে যাচ্ছে। দেশের কল্যাণে মানুষের মধ্যে সৌহার্দ ও সম্প্রীতি বাড়ানোর এক মিলনস্থল।

একটি অঞ্চল হয়ে যায় একটি ঘরের ছাদ। একি ছাদে থেকে সবার সাথে সবার ভাব আদান প্রদানের মধ্যদিয়ে সামাজিক দায়িত্ব পালনের জন্য অংগীকারবদ্ধ হওয়া। একটি অঞ্চলের মানুষগুলোকে একটি সুতায় বেধে একে অপরকে সুখে দু:খে প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে পাশে থেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া। সমাজের অবহেলিত মানুষগগুলোকে সঠিক রাস্তা দেখানোই রেজাউল করিম সিকদার ফাউন্ডেশন (আরকেএসএফ)’র প্রথম কাজ। দেশের কৃষি উন্নয়ন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, ক্ষুধা মুক্ত, সুস্বাস্থ্য, জেন্ডার সমতা, বিশুদ্ধ পানি ও পায়:নিস্কাশন, মানসম্মত শিক্ষা, বৈষম্য হ্রাসকরণ, জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিরোধ, সমুদ্রের সুরক্ষা, ভূমির সুরক্ষা, শান্তি ও ন্যায় বিচার নিয়ে কাজ করা।
অসহায়, এতিম,পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর এবং দুস্থ মানুষের মাঝে, খাবার বিতরণ, শীত বস্র বিতরণ, অসুস্থদের জন্য ঔষধ বিতরণ, ছাত্র ছাত্রীদের শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ, রমজানে ইফতার ও সেহরি বিতরণ, গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ করে আসছে।
মানুষের পাশে থেকে মানুষের জন্য কাজ করা। আপনারা জানেন রেজাউল করিম সিকদার ফাউন্ডেশন ( আরকেএসএফ) ইতিমধ্যে অসহায় ও সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছে।


বন্ধুদের এক চায়ের আড্ডা থেকে ২০১৯ সালের ৫ই জুন আন্তর্জাতিক পরিবেশ দিবসে প্রাতিষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় আরকেএসএফ । এরপর থেকে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রেখে চলেছে এই সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবকগণ।নাম দেওয়া হয় রেজাউল করিম সিকদার ফাউন্ডেশন সংক্ষেপে আরকেএসএফ বা আরকেএস ফাউন্ডেশন নামে পরিচিত।
চট্টগ্রামের তরুণ সংগঠনক মোঃ জাহেদুল করিম বাপ্পি সিকদারের হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয় রেজাউল করিম সিকদার ফাউন্ডেশন(আরকেএসএফ)।বাপ্পি ও তার বন্ধুদের এক আলোচনায় দেশের জন্য সমষ্টিগতভাবে কাজ করার উদ্যোগ হিসেবেই যাত্রা শুরু হয় আরকেএস ফাউন্ডেশন নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের।
চট্টগ্রাম শহরের রাস্তার পাশে একহাজার গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করে আরকেএস ফাউন্ডেশন । ছাড়াও ঝরেপড়া রোধে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, বিভিন্ন প্রতিযোগীতার আয়োজন করতো আরকেএসএফের স্বেচ্ছাসেবকগণ।

প্রথমে শুধুমাত্র চট্টগ্রাম শহর এলাকায় কাজ করলেও বর্তমানে ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া সারাদেশের বিভিন্ন জেলায় প্রায় অর্ধশতাধিক প্রতিনিধি রয়েছে আরকেএস ফাউন্ডেশনের।

ফাউন্ডেশনের পাঠদান কর্মসূচীর মাধ্যমে প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর ঝরেপড়া রোধে কাজ করেছে সংগঠনটি। এছাড়া উচ্চশিক্ষা বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধিতেও কাজ করে যাচ্ছে তারা। শিক্ষার আলোকে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য অন্যতম একটি উদ্যোগ আরকেএসএফ পাঠাগার কার্যক্রম। পাঠ্য বইয়ের বাইরের জগতের সাথে শিক্ষার্থীদের যোগসূত্র স্থাপন করতে এই প্রকল্পটি অনেক ফলপ্রসূ হবে বলে মনে করছেন প্রকল্পের সাথে যুক্ত স্বেচ্ছাসেবকগণ।

ইতোমধ্যে বান্দরবানের লামা উপজেলায় দূর্গম পাহাড়ে পিছিয়ে পড়া পাহাড়ি জনগোষ্ঠী মুরুং সম্প্রদায়ের বাচ্চাদের জন্য বিদ্যালয় পরিচালনা করে আসছে।

বই পড়ার আন্দোলনকে সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে নিয়মিত কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে আরকেএস ফাউন্ডেশনের। বিদ্যালয় ভিত্তিক পাঠাগার কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে পাঠাগার স্থাপনের লক্ষ্যে কাজ করছেন আরকেএস ফাউন্ডেশন ।

করোনাকালে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা সহ সর্বক্ষেত্রে স্মার্টফোন, ইন্টারনেট ইত্যাদির ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে সেইসাথে শিশু-কিশোররা অনলাইন গেম সহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে।

তারই সমাধান হিসেবে দেশের ৬৪ জেলার শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক শিক্ষার্থীকে সাইবার এডুকেশন প্রদান করতে কাজ করছে আরকেএস ফাউন্ডেশন । এই কার্যক্রমের আওতায় রয়েছে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন, প্রশিক্ষণ কর্মশালা, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্পৃক্তকরণ ও মতবিনিময় ইত্যাদি। পর্যায়ক্রমে এই কার্যক্রম দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে দেয়ার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা রয়েছে আরকেএস ফাউন্ডেশনের।

রক্তদাতা সংগঠন হিসেবে কাজ করে পেয়েছে বেশ সুনাম। সাধারণ মানুষ ও অসহায় পরিবারের সদস্যদের রক্তের প্রয়োজনে কাজ করছে আরকেএসএফ ব্লাড ব্যাংক। আরকেএসএফের মাধ্যমে প্রায় দু’হাজার মানুষ জরুরী অবস্থায় প্রয়োজনীয় রক্ত খুঁজে পেয়েছেন। প্রতিনিয়ত রক্তদাতা খুঁজে দিতে চেষ্টা করে যাচ্ছে সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীগণ। কোন রোগী যেন রক্তের অভাবে মৃত্যুর কোলে ঢলে না পড়ে এটাই তাদের লক্ষ্য।

আরকেএস ফাউন্ডেশন অন্যান্য কার্যক্রমের মধ্যে অন্যতম হলো পরিবেশ রক্ষায় কাজ করা। প্রতিবছর আরকেএস ফাউন্ডেশন দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃক্ষরোপন, বৃক্ষের চারা বিতরণ ও বিভিন্ন ফল-সবজির বীজ বিতরণ করে থাকে। বিগত বছরগুলোতে আরকেএস ফাউন্ডেশন প্রায় ১২ লক্ষ গাছের চারা রোপন ও বিতরণ সম্পন্ন করেছে। এছাড়া পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে নিয়মিত ক্যাম্পেইন ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতা আয়োজন করে যাচ্ছে তারা। দেশ ও দেশের বাইরে থেকেও পরিবেশ বিষয়ে সচেতন মানুষ এই কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছে এবং তাদের মতামত তুলে ধরছে। ইতিমধ্যে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আরকেএস ফাউন্ডেশন ঘোষণা দিয়েছে দেশব্যাপী ১ কোটি গাছের চারা রোপণের।

শিক্ষার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলা ও সংস্কৃতি চর্চা বাড়াতে কাজ করে যাচ্ছে আরকেএস ফাউন্ডেশন। আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ কর্ণধার। সুনাগরিক হয়ে তারাই একদিন উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলবে ও আগামীতে বিশ্ব আসরে তাদের নিজস্ব আসন করে নিতে পারবে, তাই শিশুদের খেলাধুলার ওপর গুরুত্বরোপে অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের জিমনেসিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় সিজেকেএস রেজাউল করিম সিকদার ফাউন্ডেশন চুকবল লীগ ২০২২। এই লীগে চট্টগ্রামের স্বনামধন্য ১৪টি দল অংশ গ্রহণ করে।

আরকেএস ফাউন্ডেশন শুরু থেকেই বিভিন্ন জরুরী দুর্যোগপূর্ণ সময়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তাদের নিয়মিত কার্যক্রম হিসেবে প্রতিবছর শীতে অসহায় শীতার্তদের জন্য গরম কাপড়, কম্বল, লেপ ইত্যাদি প্রদান করছে। ‘মানবতায় আরকেএসএফ নামের এই প্রকল্পের ফলে প্রতিবছর ৫০০-১০০০জন এই সহায়তা পাচ্ছেন। এছাড়া রমজান মাসে ‘ইফতার সামগ্রী বিতরণ’ কার্যক্রমের আওতায় প্রতিবছর ২৫০-৩০০টি পরিবার এবং ৮০ – ১০০টি এতিম খানায় পাচ্ছেন ইফতার সহায়তা।

মহামারি করোনা চলাকালীন সময়ে আরকেএসএফ ২০ হাজার সচেতনতামূলক লিফলেট, ২৫০০ এর অধিক মাস্ক, ১০০০পিস সাবান বিতরণ করেছে। পাশাপাশি তারা সহস্রাধিক অসহায় পরিবারকে প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী উপহার হিসেবে পৌঁছে দিয়েছেন। এছাড়া বন্যায় ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা ও পুনর্বাসন, প্রাকৃতিক দূর্যোগ সহ যেকোন জরুরী ইস্যুতে সহায়তা প্রদান করছে সংগঠনটি।

আরকেএসএফ ইয়্যুথ ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (এনওয়াইডিপি) প্রকল্পের ফলে ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবীগণ লিডারশীপ, ম্যানেজমেন্ট, পাবলিক স্পিকিং, কমিউকেশন এন্ড নেটওয়ার্কিং সহ বিভিন্ন কর্ম ও জীবনমুখী দক্ষতা অর্জন করতে সক্ষম হচ্ছে।

ফাউন্ডেশনের নির্ধারিত মেন্টর ও প্রশিক্ষকগণ সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে। আরকেএসএফের এই সুদক্ষ মেন্টর প্যানেলে রয়েছেন দেশের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, বিভিন্ন সংগঠনের প্রধান সহ বিষয়ভিত্তিক দক্ষ জনবল। স্বেচ্ছাসেবীগণ শিক্ষার্থী হওয়ায় তাদের দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি তাদেরকে কর্মক্ষেত্রের জন্য যোগ্য করে গড়ে তুলতে চায় আরকেেসএফ। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের অন্তত ২০ হাজার তরুণকে বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ করতে চায় আরকেএস ফাউন্ডেশন।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০ কে লক্ষ্যমাত্রা কেন্দ্র করে শিশুদের নিয়ে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা, কুইজ-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগীতা আয়োজন করা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ক সচেতনতার জন্য ‘খাদ্য ও পুষ্টি’ নামে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং নারীর ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে কাজ করছে সংগঠনটি।

আরকেএসএফ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মোঃ জাহেদুল করিম সিকদার বাপ্পি চট্টগ্রাম পোর্ট সিটি ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ ডিগ্রী অর্জন করলেও মানুষের জন্য কাজ করতেই বেশি পছন্দ করেন। ইচ্ছা প্রকাশ করছেন পরিবেশ নিয়ে ডক্টর ডিগ্রী করার।

সমাজের অবহেলিত মানু্যষের পাশে দাঁড়ানোর স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন সংগঠন ও ক্লাব থেকে পেয়েছেন ভলান্টিয়ার এওয়ার্ড। আরকেএস ফাউন্ডেশন কে সফল ভাবে এগিয়ে নিতে এই তরুণ উদ্যোক্তা সকলের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন।
লেখক ঃ

মুজিব উল্ল্যাহ্ তুষার
সাংবাদিক, সংগঠক ও পরিবেশ কর্মী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here